মশলা

ধনিয়া চাষাবাদ

ধনিয়া চাষাবাদ পদ্ধতি আলোচনা

পরিচিতি
Local name:ধনে গাছ,ধনিয়া গাছ
English name:Coriander
Scientific name:Coriandrum sativum
Family:Apiaceae এটি বর্ষজীবী,গাছগুলো বহু শাখা -প্রশাখা বিশিষ্ট।সুক্ষ্ম রোমযুক্ত পাতার ধারগুলো কাটা,অসমান তবে গোলাকার।শীতকালে ফুল হয়।ফল গোলাকার,ভাঙ্গলে দুইভাগে ভাগ হয়।শীতের শেষে ফুল ও ফল হয়।সম্পূর্ণ উদ্ভিদটিই ভেষজগুণ সম্পন্ন।ধনে ভিজানো পানি খালি পেটে খেলে শরীরে অনেক যন্ত্রনা প্রশমিত হয়।ধনে বাটা কাশির জন্য উপকারী।

মাটি ও আবহাওয়াঃ
প্রায় সব রকমের মাটিতেই এ জাতটি চাষ করা যায়। তবে বেলে দোআঁশ থেকে এঁটেল দোআঁশ মাটি ধনিয়া চাষের জন্য উপযোগী। ধনিয়া জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না বিধায় জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঠাণ্ডা আবহাওয়া ধনিয়ার বীজ উৎপাদনের জন্য অনুকূল বলে রবি মৌসুমে এর চাষ করা হয়ে থাকে । উচ্চ তাপমাত্রায় ও খরায় ধনিয়া বীজের ফলন ভাল হয় না । ফুল ফোঁটার সময় বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও কুয়াশা হলে ধনিয়ার ফলন কমে যায় । তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে ধনিয়া পাতার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে থাকে ।
বীজের হারঃ
সারিতে হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি এবং ছিটিয়ে বোনার ক্ষেত্রে হেক্টর প্রতি ১৫-২০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। ধনিয়া পাতার জন্য ৩৫-৪০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।
বীজ বপনঃ
বপনের পূ্র্বে বীজ গুলো বস্তা বা চটের ব্যাগে নিয়ে ঘষে দু টুকরো করে নিলে ভাল হয়। ধনিয়ার খোসা খুব শক্ত হওয়ায় বীজ বোনার আগে পানিতে ২৪-৪৮ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে বুনলে তাড়াতাড়ি অঙ্কুরোদগম হয়। সারিতে বোনার ক্ষেত্রে মাটির ২-৩ সেন্টিমিটার গভীরে বীজ বপন করে, সারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫-৩০ সেন্টিমিটার, গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৮-১০ সেন্টিমিটার রাখতে হবে। বপনকৃত বীজ অঙ্কুরোদগম হতে সাধারনত ৮-২১ দিন সময় লাগে। কোন ক্ষেত্রে এর চাইতেও বেশি সময় লাগতে পারে। জমির আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে বীজ বপনের পর পরই হালকা সেচ দিতে হবে। তাতে অঙ্কুরোদগম বৃদ্ধি পাবে।
ফসল সংগ্রহঃ
বপনের ৪৫-৫০ দিন পর গাছে ফুল আসে এবং ১৩৫-১৪০ দিন পর ধনিয়া পাকে । পাকলে গাছ হলদে হয়ে পাতা শুকিয়ে যায়। সাধারণত খুব ভোরে অর্থাৎ সূর্যের আলোর প্রখরতা বৃদ্ধির পূর্বে গাছ উঠাতে হবে। ধনিয়ার বীজ হালকা সবুজ অবস্থায় থাকতেই গাছ তুলতে হবে। নতুবা বীজের মান ভাল হয়না। বীজ রোদে শুকিয়ে মাড়াই-ঝাড়াই করে পৃথক করা হয়। বীজে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০% রেখে শুকিয়ে ভালোভাবে সংরক্ষন করতে হবে। পাতার জন্য ৩০-৩৫ দিন পর পাতা তোলা ভাল।
ফলনঃ
পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও সেচ প্রয়োগে হেক্টর প্রতি ১.৫-২.০ টন শুকনা বীজের ফলন পাওয়া যায়।
বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষনঃ
ধনিয়া পর-পরাগায়িত ফসল। ইহার বীজ উৎপাদনের জন্য জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষা করতে হলে অন্য জাত থেকে ১০০০ মিটার দূরত্বে চাষ করতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোন জাতের মিশ্রণ পরিলক্ষিত হলে , তা ফল আসার পূর্বেই তুলে ফেলতে হবে। বীজ আহরনের পর ৫-৭ দিন রোদে শুকিয়ে মাড়াই-ঝাড়াই করে বীজ পৃথক করতে হবে এবং ভালভাবে শুকিয়ে বীজ সংরক্ষণ করতে হবে। বীজের স্বাভাবিক রঙ এবং সুগন্ধ বজায় রাখার জন্য পাটের বস্তায় পলিথিনের ব্যাগে সংরক্ষন করতে হবে।
আন্তঃপরিচর্যাঃ
বীজ বপনের ১৫-২০ দিনের মধ্যে প্রথম নিড়ানী দিতে হবে। একইভাবে একই সময়ের ব্যবধানে পরবর্তীতে ২-৩ টি নিড়ানী দিতে হবে। প্রতিবার সেচের পর জমির ‘জো’ আসা মাত্র মাটির চটা ভেঙ্গে দিতে হবে। চারা গজানোর পর থেকে ২-৩ ধাপে ৪-৫ দিন পরপর নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চারা পাতলা করে দিতে হবে।
সেচঃ
ধনিয়া ফসলে ৪-৫ টি হালকা সেচ প্রয়োগ করতে হবে। গজানোর সময় হালকা সেচ, ফুল আসার আগে ও দানা গঠনের সময় সেচ দেওয়া খুবই প্রয়োজন। এতে বীজ পুষ্ট ও ফলন বেশি হয়।
জমি তৈরিঃ
মাটির প্রকারভেদে ৪-৬ টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হবে । পরে জমিকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করে এবং দুই ব্লকের মাঝে পানি নিষ্কাশনের জন্য ৪০ সেমি নালা রেখে জমি তৈরি করা হয় ।
বপন সময়ঃ
মধ্য আশ্বিন থেকে কার্তিক (অক্টোবর- মধ্য নভেম্বর) মাস বীজ ফসলের জন্য উত্তম। তবে সবুজ পাতা ধনিয়ার জন্য (মে থেকে আগস্ট মাস ব্যতিত) যে কোন সময় বপন করা যায় এবং ভাল দাম পাওয়া যায়। সাথী ফসল হিসেবে শাক-সবজি, আখ, আলু, ডাল ফসলের জমিতে ধনিয়া চাষ করা যায়। অতিরিক্ত সুর্যালোকে বীজ বপন করলে অঙ্কুরোদ্গমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ধনিয়া বীজের জন্য বিলম্বে বীজ বপনে এর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন রোগ বালাই ও আক্রমন বেড়ে যায়।
সারের পরিমাণঃ
ধনিয়া চাষে হেক্টরপ্রতি নিচের হারে সার প্রয়োগ করতে হয়-
সারের নাম মোট পরিমাণ শেষ চাষের সময় প্রয়োগ        ১ম কিস্তি              ২য় কিস্তি
ইউরিয়া ১৫০-১৮০ কেজি –                                            ৭৫-৯০ কেজি              ৭৫-৯০ কেজি
টিএসপি ১১০-১৩০ কেজি সব – –
এমওপি ৯০-১১০ কেজি সব – –
গোবর ৫ টন সব – –

সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
জমি তৈরীর সময় সমস্ত গোবর, এমওপি ও টিএসপি সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা গজানোর ১৫ দিন পর ১ম কিস্তি এবং চারা গজানোর ৪০ দিন পর বাকি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button