উন্নত কৃষি প্রযুক্তি

পরাগায়ন

পরাগায়ন নিয়ে আলোচনাঃ-

একটা পৃথিবীর কথা কল্পনা করা যাক, যেখানে কোন ফলমূল নেই, কোন ফুল নেই, নেই কোন শাক-সবজি!তাহলে, এই পৃথিবীটা কিসের মত হবে? সেই পৃথিবীতে কি আমরা টিকে থাকতে পারবো?

পরাগায়ন যদি না হয় তাহলে পৃথিবীর কোন প্রজাতির ফল, ফুল ও সবজি আর নতুন করে জন্ম নিবে না! নতুন করে জন্ম না নিলে একটা সময় পর আমরা নতুন কোন বীজ পাবো না। আর বীজ না পেলে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে অনেক প্রজাতির গাছ বিলিন হয়ে যাবে! দেখা দিবে অক্সিজেন সংকট। পুরা ফুড চেইনের বিশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে পৃথিবী ও বায়ুমণ্ডল।

আমরা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ খাবারই হাতের নাগালে পাবো না।

বলা হচ্ছে, তখন অনেক দামি হিরা চেয়ে খাবারের দাম বেশি থাকবে। আর, একসময় আমাদের সংরক্ষণ করা খাবারও শেষ হবে! শুধুই কী খাবার?পরাগায়ন না হলে আমরা কোন ধরণে কটন সমৃদ্ধ জামা-কাপড়ও তৈরি করতে পারবো না। কারণ পরাগায় না হলে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম কাঁচামাল তুলা কখনো উৎপন্ন হবে না। ফলে আমাদেরকে আবার আগের যুগের মানুষের মত গাছের ছাল-বাকলকেই জামা কাপড় হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

পরিবেশের ভারসাম্য পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে যাবে, খাবারের সংকট দেখা দিবে। একসময় হয়তো আমাদের পৃথিবী আর বসবাস উপযোগী থাকবে না। মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্রহের মতো মানুষ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাব

পরাগায়নঃ-
পরাগধানীথেকে পরাগ রেণু স্হানান্তরিত হয়ে ফুলের গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

কৃত্রিম পরাগায়ন/ হাত পরাগায়নঃ-
Cucurbitaceae পরিবারভুক্ত যেমন- লাউ, কুমড়া, চালকুমড়া, পটল ইত্যাদি গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পৃথক হয়। একই বয়সের পুরুষ ও স্ত্রী ফুল কাছাকাছি থাকলে এবং বাতাসের বেগ প্রবল হলে কিছু পরাগায়নের সম্ভাবনা থাকে তবে তা একেবারেই নগন্য। তাই পোকা-মাকড় বা মৌমাছি বেশি না থাকলে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পরাগায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরাগায়ন সম্ভব হয় না। পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পৃথক হওয়ায় কৃত্রিমভাবে পুরুষ ফুল এনে স্ত্রী ফুলের পরাগায়ন ঘটালে ফলন ভালো হয়। এ জন্য পুরুষ ও স্ত্রী ফুল চেনা প্রয়োজন। পুরুষ ফুল ফুলের বোঁটার অগ্রভাগে ফুটে। পাপড়ির মাঝখান দিয়ে বেড়ে যাওয়া পুংদণ্ডে পাউডারের গুঁড়ার মত পরাগরেণু থাকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button