উন্নত কৃষি প্রযুক্তি

বীজতলার যত্ন

বীজতলার যত্ন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

বীজতলার যত্ন
সুস্থ ও সবল চারা পেতে হলে বীজ বপনের পর বীজতলার বিশেষ যত্ন নেয়া দরকার। বীজ বেডের উপরে থাকে বলে পাখিদের নজরে পড়ে। তাই বপনের সময় থেকে ৪/৫ দিন পর্যন্ত পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বোরো মৌসুমে শীতের জন্য চারার বাড়-বাড়তি ব্যাহত হয়। এ কারনে রাতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে ঠান্ডাজনিত ক্ষতি থেকে চারা রক্ষা পায় এবং চারার বাড়-বাড়তি ভাল হয়।
বীজতলায় সব সময় নালা ভর্তি পানি রাখা উচিত। বীজ গজানোর ৪-৫ দিন পর বেডের উপর ২-৩ সেন্টিমিটার পানি রাখলে আগাছা ও পাখির আক্রমণ রোধ করা যায়। বীজতলা শুকিয়ে গেলে শিকড় বেশি বড় হয়ে যায় এবং চারা তুলতে কষ্ট হয়।

বীজতলায় পরিমিত পানি রাখতে হবে। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে চারার বাড়-বাড়তি কমে যায় এবং চারা দূর্বল হয়ে পড়ে। তাই মাঝে মাঝে জমে থাকা পানি বের করে নতুন পানি দিলে চারা সবল হয়।

উর্বর ও মাঝারি উর্বর জমিতে বীজতলা তৈরি করলে কোন সারের প্রয়োজন হয় না। অনুর্বর ও স্বল্প উর্বর জমিতে প্রতি বর্গমিটারে ২ কেজি গোবর বা পচা আর্বজনা সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া যদি চারা হলদে হয়ে যায় তবে চারা গজানোর দুই সপ্তাহ পর প্রতি বর্গমিটারে ৭ গ্রাম ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করলেই চলে।

ইউরিয়া প্রয়োগের পর চারা সবুজ না হলে গন্ধকের অভাব হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। এ ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে ১০ গ্রাম জিপসাম সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের পর বীজতলায় পানি ধরে রাখা উচিত। তাছাড়া সময়মত আগাছা ও পোকামাকড় দমন করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button